গাজী মামুন, লালমাই।। কুমিল্লার লালমাইয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়ার সৌদি প্রবাসী রাসেলের স্ত্রী ঝুমু আক্তারের (৩৫) ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার হয়।
নিহত যুবকের নাম এনায়েত হোসেন বাহার (৩৮)। তিনি ওই এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে এবং ব্যক্তিগত জীবনে নিহত বাহার অবিবাহিত ছিলেন। লাশ উদ্ধারের সময় তাঁর মাথায় এবং ঘাড়ে কোপের চিহ্ন ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ বছর ধরে অন্য স্থান থেকে এসে দত্তপুর এলাকায় বসবাস করছে রাসেলের পরিবার। রাসেল প্রবাসে থাকার সুবাদে কয়েক বছর পূর্বে তার স্ত্রী ঝুমু আক্তারের সঙ্গে নিহত এনায়েত হোসেন বাহারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল৷ বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে প্রবাসী রাসেল তার স্ত্রীকে চাপ দিলে ঝুমু ও বাহারের পরকীয়া সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি হয়৷ দীর্ঘদিন দেশে ছুটি কাটিয়ে গত এক সপ্তাহে আগে আবারও সৌদি আরবে চলে যান রাসেল। ঘরে ছিল রাসেলের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান। ঘরে কোনো পুরুষ না থাকার সুযোগে শনিবার ভোরে ওই প্রবাসীর স্ত্রী দরজা খোলা রেখে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করে বাহার। এসময় বাহার জোরপূর্বক অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারী ঘরে থাকা বটি দা দিয়ে মাথা এবং ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে ওই নারী নিজেই ৯৯৯ এ ফোন ধরে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং হত্যাকারী ঝুমুকে আটক করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ঝুমু আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রবাসে থাকে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘরে আমার বৃদ্ধা শাশুড়ী এবং আমি থাকি। সেই সুযোগে নিহত বাহার আমাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। এ ঘটনায় কুমিল্লা র্যাব অফিসেও একবার অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগের পর কিছুদিন উত্ত্যক্ত করা বন্ধ থাকলেও আমার স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পরপরই আবার আমার ঘরে ঢুকে পড়ে সে। ঘরে ঢুকেই আমার শরীরে স্পর্শ করে এবং জোরজবরদস্তি শুরু করলে একপর্যায়ে আমি বাঁচার জন্য বটি দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে দেই৷ এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। পরে আমি নিজেই ৯৯৯ এ কল করে পুলিশে খবর দেই।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দাবি এনায়েত হোসেন বাহারকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, হত্যার পর হত্যাকারী নিজেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে হত্যার কথা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে হত্যাকারী নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।