গাজী মামুন, লালমাই।। কোনো ধরনের টেন্ডার বা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লা লালমাই উপজেলার মোহনপুর আলিম মাদ্রাসা আঙিনার বড় দুটি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো মাত্র ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ মো. হাসানুজ্জামান। স্থানীয়দের দাবি, গাছ দুটির মূল্য হবে লক্ষ টাকা। এছাড়াও অধ্যক্ষ নিজের ইচ্ছায় ফার্ণিচার বানানোর কথা বলে গত ডিসেম্বরে মাদ্রাসার একটি গাছ কেটে কাঠ কি কাজে লাগিয়েছেন তা কেউ জানেনা।
জানা গেছে, গত শনিবার (৪ জুলাই) মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান মাদ্রাসা আঙিনার দুইটি বড় গাছ কেটে বিক্রি করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি বা কর্তনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে বন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন কাউকেই বিষয়টি জানানো হয়নি।
এদিকে গাছ কাটার কথা স্বীকার করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “মাদ্রাসার প্রয়োজনে পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা ও রেজুলেশন করে গাছগুলো কাটা হয়েছে।” গাছ কেটে বিক্রির দুইদিন অতিবাহিত হলেও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, “উপজেলা প্রশাসনকে গাছ কাটার আগে জানাই নি; এখন জানাবো।” এ কথা বলেই তিনি সাংবাদিকের ফোন কেটে দেন। তবে গাছ কাটার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন বলেন, গাছ কাটার আগে অধ্যক্ষ এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি নিয়ে আলোচনা করে রেজুলেশন করেছি। এরপরে অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান উপজেলা থেকে গাছ কাটার অনুমতি নিয়েছেন কিন্তু আমার জানা নেই এবং কত টাকায় গাছ বিক্রি হয়েছে তাও আমি জানিনা।
এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা জিয়াউল আলম বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ কোনো আবেদন করেনি। বিষয়টি আমার জানা নেই।
জানতে চাইলে লালমাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদুল্লাহ বলেন, মোহনপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আজকেই আমাকে ফোনে গাছ কাটার বিষয়টি জানিয়েছেন তবে গাছ কাটার আগে আমাকে অবগত করেননি। প্রজ্ঞাপন আনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা কর্মকর্তা ও বন বিভাগের কাছে লিখিত আবেদন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনুমোদন দিলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা যাবে এবং আবেদনের মাধ্যমে গাছের মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে বা কম টাকায় গাছ বিক্রি হলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লালমাই শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ অনুমতি ছাড়া কাটা ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গাছ কাটতে হলে উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা কর্মকর্তা ও বন বিভাগের লিখিত অনুমোদন এবং কমিটির রেজুলেশন প্রয়োজন হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গাছ কাটতে হলে প্রতিষ্ঠানের কমিটি রেজুলেশন আকারে বিষয়টি আমাদেরকে জানাতে হবে। মোহনপুর মাদ্রাসার গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিধিবহির্ভূতভাবে গাছ কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।