
গাজী মামুন, লালমাই।। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছর পর ব্যক্তিগত অর্থায়নে কুমিল্লা লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের ভাবকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় দোয়া-মোনাজাত ও ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে নবনির্মিত গেইটটি উদ্বোধন করেন লন্ডনস্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাবকপাড়া গ্রামের কৃতী সন্তান আবদুল্লাহ আল মামুন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমাই উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ইমাম হোসাইন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য ও আবদুল্লাহ আল মামুনের ছোট ভাই ফরহাদ উদ্দিন বাবু, ভাবকপাড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, বাকই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফেজ আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ভাবকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, কাপাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, ইউপি সদস্য আবদুল করিম, বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মাসুদ মাহমুদ, সোহাগ মোল্লাসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৩৯ সালে ভাবকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাবকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবহেলিত ছিল। স্কুলটি গ্রামীণ সড়ক সংলগ্ন হওয়ায় গেইট না থাকায় রাস্তা পারাপার এবং খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের আতঙ্কে থাকতে হয়। তাই বিষয়টি মামুন’কে অবগত করার সঙ্গে সঙ্গেই সে গেইটটি নির্মাণ করে দিতে রাজি হয় এবং ইতোমধ্যে গেইট তৈরির কাজ সম্পন্ন করে নতুন গেইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করেছে। তাই আমরা শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।
এ-সময় উদ্বোধকের বক্তব্যে আবদু্ল্লাহ আল মামুন বলেন, ২০২৩ সালে প্রথম এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার সাথে দেখা করে একটি কম্পিউটার কেনার জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা চায়। আমি পুরো কম্পিউটার কেনার টাকাই দিয়ে দেই। কিছুদিন পূর্বে আবার আমার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান গেইট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে আমি এটাও করে দেই। আমি দীর্ঘ বছর ধরে সুদূর লন্ডনে ব্যবসা করছি। পাশাপাশি নিজ দেশ এবং নিজ এলাকার অবহেলিত মানুষ, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছি। কারণ, মানবকল্যাণে কাজ করে শান্তি পাই। এটি আমার প্রয়াত বাবার কাছ থেকে শেখা। আগামীতেও এলাকার গরীব, দুঃখী ও মেহনতী মানুষের কল্যাণে পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।