
গাজী মামুন, লালমাই।। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাসিন্দা ও কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট এলাকায় অবস্থিত জান্নাতুল নাঈম মহিলা মাদ্রাসা ও আর রহমান হাফিজুল কোরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, তরুণ আলেম এইচএম সালমান আবদুর রহমান (৪০) কে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সালমানের বাড়ি উপজেলার ভূলইন উত্তর ইউনিয়নের দাপাড় গ্রামে এবং সে ওই গ্রামের মাওলানা আবদুর রহমানের ছেলে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণে কুমিল্লা শহরেই স্ত্রী, তিন কন্যা, এক শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী নিয়ে থাকতেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন, সহকর্মী, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
নিহতের স্ত্রী ও শ্যালক জানান, ঘটনার দিন ভোর ৬টার দিকে স্ত্রী তাকে টয়লেটে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পাশের রুমে থাকা নিহতের শ্যালককে ডাক দিয়ে এনে অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে স্ত্রী ও শ্যালক মৃতদেহ নিহতের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।
নিহতের পিতা আবদুর রহমান বলেন, আমার ছেলে কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট এলাকায় দুটি মাদ্রাসা চালানোর সুবাদে কুমিল্লা শহরেই ভাড়া বাসায় থাকে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আমার নাতনি ফোন দিয়ে জানায় আমার ছেলে স্ট্রোক করেছে। তার অবস্থা খারাপ হাসপাতালে আছে। পরে শুনি হাসপাতালে নেয়ার আগেই সে মারা গেছে। লাশ গ্রামের বাড়িতে আনার পর দেখি তার (সালমান) সমস্ত মুখ এবং মাথা ক্ষত-বিক্ষত। পায়ের দিকেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্ট্রোক করলেও তো সমস্ত মুখ, মাথা এবং পায়ে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা না। এখন ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এ-সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা যেহেতু কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার সেহেতু মামলা সেখানেই হবে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।